মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান মনিটরিং করছে কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: বর্তমানে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রচারিত অনুষ্ঠান, টক শো ও সংবাদ নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য কমিটি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
রোববার সংসদে প্রশ্নোত্তর-পর্বে তিনি বলেন, সরকারি ও জাতীয় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন জাতির কাছে পুরোপুরি দায়বদ্ধ। তাই বাংলাদেশ টেলিভিশন হতে বিকৃত ও অসত্য তথ্য প্রদান করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার মতো কোনো অনুষ্ঠান বা টক শো প্রচার করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪’-এর তৃতীয় অধ্যায়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য বা উপাত্ত পরিহারের জন্য বলা হয়েছে। উক্ত নীতিমালা কার্যকর করার জন্য ‘সম্প্রচার আইন-২০১৫’ ও ‘সম্প্রচার কমিশন আইন-২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন দুইটি প্রণীত হলে ‘সম্প্রচার কমিশন’ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং টক শো’র জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। ফলে টক শোগুলোতে বিকৃত ও অসত্য তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে না।
সরকারি দলের সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী জানান, বেসরকারি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল বা পত্রিকায় ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার বা বিরোধীকে লক্ষ্য করে বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রকার কল্পকাহিনী বা মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার করা হলে সেক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকারি দলের মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের বিষয়ে ভারতীয় দর্শকদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। তবে বিদেশী টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউনলিংক ফি বেশি হওয়ায় ভারতীয় ক্যাবল অপারেটররা এই বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে না। বিষয়টি ভারতীয় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, সার্কভুক্ত দেশসমূহের টিভি চ্যানেলসমূহ যাতে সহজে ভারতে সম্প্রচার করা যায় সেই লক্ষ্যে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্ক ফোরামে উত্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
অপর এক প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫২৮টি দৈনিক পত্রিকার মধ্যে প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে আছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।
সরকার দলীয় সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর তালিকা অনুযায়ী, ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ প্রচার সংখ্যা নিয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রথম আলোর প্রচার সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার ৮০০। আর ২ লাখ ৫০ হাজার ৮২০ প্রচার সংখ্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কালের কণ্ঠ। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মিডিয়াভুক্ত পত্রিকার সংখ্যা ৫২৮টি। এরমধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ২৪৫টি এবং মফস্বল থেকে প্রকাশিত হয় ২৮৩টি। বর্তমানে প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার এবং মিডিয়া স্থগিত রয়েছে চারটি পত্রিকার।
নতুন বার্তা/এসএ
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০১৫
মুক্তমনার ব্লগার খুন, বুধবার সিলেটে আধাবেলা হরতাল
সিলেট অফিস : মুক্তমনার ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যার প্রতিবাদে নগরীতে বুধবার আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চ।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় দ্য রিপোর্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. রহমতউল্লাহ দ্য রিপোর্টকে জানান, অফিসে যাবার জন্য মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার ১৩/১২, নুরানী বনকলা পাড়া এলাকার বাসা থেকে বের হলে অনন্ত বিজয়কে চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি কোপায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তমনা ব্লগে নিজ নামে লেখালেখি করতেন অনন্ত বিজয়। ব্লগে তার সম্পর্কে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, অনন্ত বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছোটকাগজ 'যুক্তি'র সম্পাদক ছিলেন।
মানবতা ও যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে মুক্তমনা র্যাশনালিস্ট এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। তার প্রকাশিত প্রবন্ধ গ্রন্থ (১) পার্থিব, (সহলেখক সৈকত চৌধুরী), শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১১। (২) ডারউইন : একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা, (সম্পাদিত), অবসর, ঢাকা, ২০১১। (৩) সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব : লিসেঙ্কো অধ্যায়, শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১২। (৪) জীববিবর্তন সাধারণ পাঠ (মূল : ফ্রান্সিসকো জে. আয়াল, অনুবাদ : অনন্ত বিজয় দাশ ও সিদ্ধার্থ ধর), চৈতন্য প্রকাশন, সিলেট, ২০১৪।
চলতি বছর এ নিয়ে দু’জন ব্লগার ও একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট খুন হলেন।
একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খুন হন মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়। এ সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদকেও (৩০) কুপিয়ে জখম করা হয়। এর কয়েক দিন পরই হাতিরঝিলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অনলাইন এক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে।
রাজধানীর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ফেরার পথে ২০১৩ সালে মিরপুরে নিজ বাড়ির সামনে খুন হন ব্লগার রাজিব, যিনি থাবা বাবা নামে লেখালেখি করতেন।
মেঘালয়ের পুলিশ আটক করেছে সালাহ উদ্দিনকে
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে সোমবার ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে সে দেশের পুলিশ আটক করেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় দ্য শিলং টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
‘বাংলাদেশী ম্যান হেল্ড’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে পত্রিকাটি বলছে, সোমবার সকালে একজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে পুলিশ। সালাহ উদ্দিন আহমেদ (৫৪) নামে ওই বাংলাদেশীকে শিলংয়ের গল্ফ লিংক নামক এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ তার ব্যাপারে তদন্ত করছে।
এদিকে বাংলদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ জানান, সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ জানান, মেঘালয়ের শিলংয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
শনিবার, ২১ মার্চ, ২০১৫
‘বিএনপি এলে আ’লীগ নির্বাচন পিছিয়ে দেবে’
দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগতো নির্বাচন করবেই না। নির্বাচন আরও পিছিয়ে দেওয়া হবে।’
মতিঝিলে শনিবার কাদের সিদ্দিকী তার চলমান ৫৩ দিনের নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান কর্মসূচিস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে সংলাপের দাবিতে ২৮ জানুয়ারি থেকে মতিঝিলের ফুটপাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কাদের সিদ্দিকী।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষণাকে বাচ্চাদের ললিপপ খাওয়ানোর মতো উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘একদিকে অবরোধ, অন্যদিকে পুলিশের গুলি। দেশের মানুষ যখন মরছে, তখন বাচ্চাদের কান্না থামানোর জন্য ললিপপ দেওয়ার মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন দেশের জনগণের সঙ্গে তামাশা। এই নতজানু নির্বাচন কমিশনের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। বিরোধী দল চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই নির্বাচন করলে সরকারি দলের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সারাজীবন চেষ্টা করেছেন সরকারি প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের আর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে গণভবনে ডেকে নিয়ে সিটি নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেন। গণভবনতো সরকারি ভবন। সেখানে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে সমর্থন দেন। এটা সংবিধানবিরোধী।’
কাদের সিদ্দিকী সরকারের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সত্যিকারের নির্বাচন হলে সরকারি দলের প্রার্থী জামানত না হারালে আমি সারাজীবন শেখ হাসিনার সেবক হয়ে থাকব। সরকারি দলের প্রার্থীর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
মুক্তিযুদ্ধের এই কিংবদন্তি বলেন, ‘দেশের মূল সমস্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর দেশের মানুষ যেমন খুশি হয়েছিল, এই দুইনেত্রী আলোচনায় বসলে দেশের মানুষ আরও বেশী খুশি হবে।’
কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ‘শ্বাস নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়েছেন। এবার আরও শ্বাস নেওয়ার জন্য আলোচনায় বসেন।’
বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশে করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি গো ধরে বসে থাকবেন না। এই ব্যর্থ আন্দোলন প্রত্যাহার করুন। আপনার আন্দোলন আর এখন আপনার হাতে নেই। এই আন্দোলন এখন গোয়েন্দাদের হাতে। আন্দোলনে বিরতি দেন। আন্দোলন শেখেন। তার পর আবার আন্দোলন শুরু করেন।’
ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচে বাংলাদেশকে জোর করে হারানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কাদের সিদ্দিকী।
কাদের সিদ্দিকী আগামী ২৮ মার্চ তার অবস্থান কর্মসূচির ৬০তম দিনে যে সব বিশিষ্ট ব্যক্তি তার অবস্থানস্থলে সংহতি জানিয়েছেন কিংবা দূরবর্তী স্থানে থেকে সমর্থন দিয়েছেন সবাইকে নিয়ে সংহতি সমাবেশ করার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ, যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম দ্বীপ প্রমুখ।
২১/৩/১৫
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০১৫
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ র্যাবের গোয়েন্দা সরঞ্জাম আটকে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড
সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করতে হাইকোর্টের রুল
ঢাকা: বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদকে খুঁজে বের করতে এবং আদালতে হাজির করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রুল দেন।
আগামী রোববারের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) প্রধান, সিআইডির প্রধান, ডিএমপির কমিশনার, উত্তরা থানার ওসিকে রুলে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে আজ আবেদন করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধিতে করা এ আবেদনের ওপর শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রুল দেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহ উদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয় বলে হাসিনা আহমদ গতকাল বুধবার রাত পৌনে নয়টার দিকে মিডিয়াকে জানান। ওই দিন রাত ১০ টার পর সালাহ উদ্দিন আহমদ মুঠোফোনে স্ত্রী হাসিনা আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কোনো কথা হয়নি।
এদিকে বিএনপিও অভিযোগ করেছে, পুলিশ, ডিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিন আহমদকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ সালাহ উদ্দিন আহমদকে গ্রেফতার বা আটকের কথা স্বীকার করেননি। বুধবার রাতে হাসিনা আহমদ স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ করে বিএনপি। দলীয় সূত্র জানায়, ঘটনা যেহেতু উত্তরায়, তাই উত্তরা থানায় জিডি করার পরামর্শ দেয় গুলশান থানার পুলিশ। পরে উত্তরা থানায় গেলে বলা হয় প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে নিয়ে আসার। এই অজুহাতে তারাও জিডি নেয়নি।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, সালাহ উদ্দিন আহমদ উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে থাকতেন। বাড়ির মালিক তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলে জানান হাসিনা আহমদ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে ২০-২৫ জন ব্যক্তি সশস্ত্র অবস্থান নেন। এ খবর তৎক্ষণাৎ বাড়ির কর্মচারীরা মালিককে জানান। কিছু সময় পর অস্ত্রধারীরা বাড়ির ফটক ভাঙার চেষ্টা করলে কর্মচারীরা ফটক খুলে দেন। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ভয়ে বাড়ির মালিক রাতে আর বাসায় ফেরেননি। সকালে তিনি বাসায় ফিরে জরুরি কিছু কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে যান।
খালেদা জিয়াকে ‘ভদ্রভাবে’ আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
অবরোধ-হরতালে পেট্রোল বোমায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আইন-আদালত মানবেন। আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। আশা করি, ভদ্রভাবে কোর্টে গিয়ে স্যারেন্ডার করবেন।”
জিয়া ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়।
ওই দুই মামলার পরের শুনানির দিন ৪ মার্চও খালেদা আদালতে না যাওয়ায় পরোয়ানা বহাল রাখা হয়।
ওই পরোয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছালেই খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে আগের দিন সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এদিন অবরোধে পেট্রোল বোমা হামলায় নিহতদের স্বজন এবং আহতদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র দেন শেখ হাসিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ২৭০টি যানবাহনের ১৯৯ জন মালিকের হাতে তুলে দেন অনুদানের চেক।
এদিন মোট পাঁচ কোটি ৪২ লাখ আট হাজার টাকার সহায়তা দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ১৯৯ জন মালিককে দেওয়া হয় এক কোটি ৫৭ লাখ আট হাজার টাকার চেক।
বিএনপি-জামায়াত জোটের দুই মাসের বেশি সময়ের অবরোধে নাশকতায় ১১৯ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই আগুন-পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পেট্রোল বোমাসহ নানা ধরনের নাশকতায় কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।
এই সময়ে ছয়টি লঞ্চে অগ্নিসংযোগ এবং ৩৪ দফা ট্রেনে নাশকতা চালানো হয়েছে।
আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেট্রোল বোমায় নিহতদের স্বজন ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
“কীভাবে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে পুড়িয়ে মারে? কোন ধরনের আন্দোলন এটা? মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর এই জুলুম কেন?”
‘মানুষের অভিশাপেই’ খালেদা জিয়া শেষ হয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আইনগতভাবে রাষ্ট্র যা করার করবে।
“খালেদা জিয়াকে বলব- ‘এই সব বন্ধ করেন’।এভাবে চললে তো উনি (খালেদা জিয়া) আর মানুষের সামনে যেতে পারবেন না।”
উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ক্ষতিপূরণের সামর্থ্য আমার নেই। তাও যেটুকু করার করছি।”
রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব যখন বাংলাদেশের উন্নতিতে স্বীকৃতি দিচ্ছে- ঠিক তখনই জ্বালাও-পোড়াও শুরু করেছে।”
বাসা রেখে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার দুই মাসের বেশি সময় অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “অফিসে কী মধু আছে জানি না। ওখান থেকে উনি আর লন্ডন থেকে তার ছেলে (তারেক রহমান) নির্দেশ পাঠাচ্ছে। আর তাদের ক্যাডার বাহিনী নেমে পড়ছে।”
এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে অবরোধের পাশাপাশি বিএনপির হরতাল ডাকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেদিন থেকে পরীক্ষা শুরু সেদিন থেকেই অবরোধের সাথে হরতালেরও ডাক দিল।
“বাচ্চাদের তো ধ্বংসাত্মক অবস্থার মধ্যে ফেলতে পারি না। তাই শুক্রবার আর শনিবার করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। না হলে পরীক্ষা অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।”
জনগণ ধ্বংত্মাক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সুখের বিষয়; জনগণ সচেতন হচ্ছে। এদের ধরিয়ে দিচ্ছে। মানুষকে জেগে উঠতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
“জনগণের শক্তি বড় শক্তি।”
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

