বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১১

মন্তব্য প্রতিবেদন : তত্ত্বাবধায়ক সরকার আজ বোঝা!




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের নিমিত্তে গঠিত বিশেষ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাই শেখ সেলিম এমপিকে টেলিভিশনে বলতে শুনলাম, আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, সেই অবৈধ বোঝা আমরা ঘাড়ে নেব কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে ১৭ বছর আগের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হয়। ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং সংসদের তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় পার্টি সম্মিলিতভাবে দুই বছরব্যাপী সফল, সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ সেলিম বর্ণিত অবৈধ বোঝাটি জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন আওয়ামী লীগ নেত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারারুদ্ধ জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সালাহ্উদ্দিন কাদের চৌধুরী (তখন এনডিপি প্রধান) ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে (তখন জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারক) পাশে বসিয়ে সর্বপ্রথম ‘অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। সেই সংবাদ সম্মেলনেই আজকের সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, দল নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই সময় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র অবস্থান ছিল উল্টো মেরুতে। তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘পাগল এবং শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন’ বক্তব্য দিয়ে আওয়ামীপন্থী সংবাদ মাধ্যম, বুদ্ধিজীবী এবং কলামিস্টদের দ্বারা দারুণভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলন চলাকালীন আমি বর্তমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপে কর্মরত ছিলাম। তখনকার একদিনের অভিজ্ঞতার কথা বলি। যতদূর জানি, সালাহ্উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সালমান এফ রহমানের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং বর্তমান বিএনপি’র স্ট্যান্ডিং কমিটির এই প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে আমারও ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রপাত বেক্সিমকো থেকেই। সেই থেকে সব বিষয়ে একমত পোষণ না করলেও আমাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ১৯৯৫ সালে সরকার বিরোধী উত্তাল আন্দোলনের সময় আমার সামনেই একদিন সালাহ্উদ্দিন কাদের চৌধুরী বেক্সিমকোর টেলিফোনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে পরিচালিত যৌথ আন্দোলনের কৌশল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। আলোচনাকালে সালাহ্উদ্দিন ভাইকে তার স্বভাবসুলভ স্টাইলে রঙ্গ-রসিকতাও করতে শুনেছিলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের সময় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সালাহ্উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়টি সম্ভবত আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তখন জানা ছিল না! আজ যখন দেখি, সেই শেখ হাসিনার নির্দেশেই সালাহ্উদ্দিন কাদের চৌধুরী তারই পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনী দ্বারা রিমান্ডে নির্মমভাবে নির্যাতিত অপমানিত হচ্ছেন, তখন সেসব দিনের কথা বড় মনে পড়ে যায়। নীতিহীন রাজনীতিবিদদের হাতে অত্যাচারিত ও প্রতারিত হওয়াই বোধহয় এদেশের দরিদ্র, অসহায় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিধিলিপি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির স্ববিরোধিতার দিকে খানিক দৃষ্টিপাত করা যাক। দলটির স্তাবকশ্রেণী দাবি করে থাকে যে, আওয়ামী লীগ নাকি সর্বদাই গণতন্ত্রের সপক্ষ শক্তি এবং বিএনপি’র জন্মকালে সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টতার কারণে রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা অস্পৃশ্য। দলবাজ আদালতের ধরা-ছোঁয়ার বাইরের নির্মোহ ইতিহাস কিন্তু এ বিষয়ে ভিন্ন সাক্ষ্য দিচ্ছে। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানকে আওয়ামী লীগ কেবল স্বাগতই জানায়নি, ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে স্বৈরশাসক এরশাদের অবৈধ শাসনের বৈধতা প্রদানের পথও তারাই প্রশস্ত করেছিল। সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার আদর্শিক অবস্থানের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী রূপে নন্দিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে জেনারেল নাসিমের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনের অভিন্ন রাজনৈতিক কালো হাতটির পরিচয়ও দেশবাসীর জানা। এক এগারোর জাতিসংঘ নির্দেশিত ক্যুদেতার বিরুদ্ধে আমরা হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র যখন বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়েও সাহস করে প্রতিবাদ করে যাচ্ছিলাম, সেই সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী তাদের সব অবৈধ কর্মকে আগাম বৈধতা দানের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং, এরশাদ আমল থেকে শুরু করে মইন-ফখরুদ্দিন জুটি পর্যন্ত তাবত্ স্বৈরাচারী সরকারের সব গণবিরোধী অপকর্মের দায়-দায়িত্ব মহাজোট নেত্রী আজ অস্বীকার করতে পারেন না। বর্তমান ক্ষমতাসীন মোর্চার প্রধান দলটির ধারাবাহিক স্ববিরোধিতা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতেও জনগণ এখন দেখতে পাচ্ছে। যে অবৈধ বোঝা শেখ সেলিম কৌশলগত কারণে আর বহন করতে চাচ্ছেন না, অসহায় জনগণের কাঁধে সেটি এতদিন ধরে চাপিয়ে রাখার অপরাধে বিচারের কাঠগড়ায় না দাঁড়ান, তারা হাত জোড় করে অন্তত ক্ষমা তো চাইতে পারেন। নাকি এটুকু দাবি করলেও আমরা ফ্যাসিবাদের নিগ্রহের শিকার হব?
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যে বিভক্ত রায় দিয়েছেন, স্ববিরোধিতার মাপকাঠিতে সেটিও গিনেস বুকে অনায়াসে স্থান করে নিতে পারে। মাননীয় লর্ডশিপরা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসপেকটিভভাবে অবৈধ, তবে আগামী দুই মেয়াদ অর্থাত্ অন্তত আরও দশ বছর জনস্বার্থে এই পদ্ধতি চলতে পারে। ইংরেজি শব্দ ‘প্রসপেকটিভ’-এর অর্থ সাধারণ জ্ঞানে যা বুঝি তা হলো, এখন থেকে। আর বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ইংরেজি-বাংলা অভিধানে শব্দটির অর্থ লেখা আছে, ‘ভাবীসাপেক্ষ’। যে আইন এখন থেকেই অবৈধ কিংবা ভাবীসাপেক্ষ, সেটি আবার দশ বছর চলে কি করে, তার জবাব দেয়ার মতো মেধা আমার নেই। জাতিকে জ্ঞানদান করার জন্য ‘শতাব্দীর সেরা ব্যক্তিত্ব’ বিশেষণে ভূষিত বিচারপতি খায়রুল হকের কাছে দৌড়ানো যেত, কিন্তু তার আর্থিক অনৈতিকতা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আল্লাহ্র দোহাই দিয়ে তাকে একা থাকতে দেয়ার আকুতি জানিয়েছেন। রায় নিয়ে আরও কথা আছে। রেট্রোসপেকটিভভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে সংবিধানের মূল নীতি থেকে কলমের এক খোঁচায় ‘আল্লাহ্র প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ সরিয়ে ফেলা হলেও ত্রয়োদশ সংশোধনীর ক্ষেত্রে ‘প্রসপেকটিভ’ আমদানি করা হলো কেন? উত্তর সম্ভবত, তাহলে তো ১৯৯১ পরবর্তী সব সরকারই অবৈধ হয়ে যায়। তাতেও অবশ্য বিচারপতি খায়রুল হকের কোনো অসুবিধা ছিল না, যদি কোনোক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬ সাল এবং বর্তমান সরকারকে বৈধ দেখানো যেত। আদালতের ভাষায় ত্ধঃরড় বলে একটা শব্দ আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিদের কে কোন ত্ধঃরড়’র ভিত্তিতে কি রায় লিখেছেন, সেটি আমজনতার জানার কোনো উপায় নেই। তবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থে পরিচালিত ঔঁফরপরধষ ধপঃরারংস-এর নামে আমাদের রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলে গত আড়াই বছরে যেভাবে আঘাতের পর আঘাত হেনে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে, তার জন্য অবশ্যই একদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বর্ণিত শতাব্দীর সেরা বিচারকটিকে জবাবদিহি করতে হবে। ‘প্লিজ, লিভ মি এলোন’ বলে সর্বদা পার পাওয়া যাবে না।
রবীন্দ্র সঙ্গীতের পরম ভক্ত এই হাদিস বিশারদ বিচারপতি আমাদের সংবিধানকে নির্দয়ভাবে ছিঁড়ে-খুঁড়ে রেখে গেছেন। পঞ্চম, সপ্তম এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী তার হাত দিয়েই বিলুপ্ত হয়েছে। এই তিন সংশোধনীর রায়ের ধারাবাহিকতায় অষ্টম এবং একাদশ সংশোধনীর অবস্থাও নড়বড়ে। অষ্টম সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এসেছে এবং সংবিধানে একাদশ সংশোধনী আনয়ন করা হয়েছিল যাতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে প্রধান বিচারপতির পুরনো পদে ফিরে যেতে পারেন। বাংলাদেশের যে ক’জন সম্মানিত নাগরিককে নানা কারণে আমি দূর থেকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি, তাদের মধ্যে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অন্যতম। ১৯৯০ সালের টালমাটাল পরিস্থিতিতে তিনি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণ করতে অসম্মত ছিলেন, এটাও সত্যি। তারপরও শুধু দেশের একজন নাগরিকের কোনো ইচ্ছাপূরণে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি মেনে নেয়া কঠিন। পঞ্চম, সপ্তম এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর এখন কোনো নাগরিক অষ্টম এবং একাদশ সংশোধনী বাতিলের জন্য যদি আদালতের শরণাপন্ন হন, তাহলে আমার ধারণা দুটো সংশোধনীকেই রক্ষা করা কঠিন হবে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এবং বিতর্কিত বিষয়াবলীতে আদালতকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জড়িয়ে বিচারপতি খায়রুল হক আদালতের মর্যাদা শেষ করার পাশাপাশি দেশকেও স্থায়ী বিভাজনের দিকে নিয়ে গেছেন। এই দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার বিবেচনায় কোনো ব্যক্তি এতবড় রাষ্ট্রদ্রোহ সংঘটিত করার পর কেবল আল্লাহ্র দোহাই দিয়ে গা বাঁচাতে পারেন না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের মতো এক হতদরিদ্র দেশের সম্পদের বিপুল ক্ষতি সাধন করা হয়েছিল। তদুপরি শত শত অমূল্য প্রাণ ঝরেছিল সেদিন। আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে আজ যারা বিজয়ীর বেশে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঝেড়ে ফেলার সদর্প ঘোষণা দিচ্ছেন, তাদের ১৯৯৪ সালে ফিরে তাকানোর অনুরোধ করি। সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের আস্কারায় দেশকে পুনর্বার সংঘাতের দিকে নিয়ে সম্পদ ও প্রাণহানির দায় থেকে আপনারা মুক্ত থাকতে পারবেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে একবার ইতিহাসে নাম লিখিয়ে, আবার ১৭ বছর বাদে সময়-সুযোগমত আদালতকে দিয়ে সেই পদ্ধতিকে বাতিল করানোকেও যুগান্তকারী বলে ইতিহাসে দ্বিতীয়বার নাম লেখাতে চাইবেন—এটা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। গত মাসের ৩০ তারিখে সংবিধান সংশোধন কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সভাশেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে এর পরিণতির সব দায়ভার কিন্তু তাদেরই নেত্রী শেখ হাসিনার কাঁধেই চাপিয়ে দিয়েছেন। এর আগে এই কমিটির সঙ্গেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দেখা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বিশদ সুপারিশমালা দিয়ে এসেছিলেন। যতদূর মনে পড়ে, সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পক্ষেই তার অভিমত জানিয়েছিলেন। আজ হঠাত্ করে তার ইউ টার্ন এবং পারিষদদের সাধু, সাধু রব অনেক প্রশ্নের জন্ম তো দিয়েছেই, তার সঙ্গে দেশকেও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক দল ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী, পেশার যেসব বাছাই করা নাগরিকের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটি বৈঠক করেছে, তাদের মধ্যেও অন্তত শতকরা নব্বইভাগ এই পদ্ধতি অব্যাহত রাখারই সুপারিশ করেছেন। এরপর কমিটির দায়িত্ব ছিল সবার মতামত সন্নিবিষ্ট করে চূড়ান্ত সুপারিশমালা সংসদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা। দেশের বিশিষ্ট সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকেও সংবিধান সংশোধন কমিটির চেয়ারম্যান এবং কো-চেয়ারম্যান যথাক্রমে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমন কথাই বলেছিলেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত আজ পর্যন্ত কমিটির কোনো সদস্যের কাছ থেকেই পাওয়া যায়নি। সেক্ষেত্রে সর্বমহলের সঙ্গে আলোচনার নামে এই কালক্ষেপণ এবং তামাশার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এই সর্বনাশা পথ থেকে বিরত হওয়ার এখনও সময় আছে। সংবিধান সংশোধন কমিটির সব দায়-দায়িত্ব নিজের কাঁধে টেনে নেয়ার ঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর একবার ভেবে দেখবেন।

বুধবার, ১ জুন, ২০১১

আসুন গীতা পাঠ করি-3




সমগ্র শাস্ত্রের নির্যাস বেদান্ত উপনিষদে। বেদান্ত উপনিষদের নির্য্যাস শ্রী শ্রী গীতায়।
গীতায় আছে: 9/14
সততং কীর্ত্তয়ন্তো মাং, যতন্তশ্চ দৃঢ়ব্রতাঃ
নমস্যন্তশ্চ মাং ভক্তা, নিত্যযুক্তা উপাসতে।।
অথর্াৎ দৃঢ়নিষ্ঠ ও যত্নশীল ভক্তেরা সর্বদা আমার কীর্তন গুণগান করে, ভক্তির সঙ্গে নমস্কার করে, সদা সমাহিত হয়ে আমারই উপাসনা করে।

তো ভগবানকে নিয়ে মানুষের তো প্রশ্নের শেষ নেই, অনুমানের শেষ নেই। মানুষের, পন্ডিতদের বিভিন্ন জল্পনা -কল্পনার জবাব দিচ্ছেন ভগবান এই বলে:

ন ত্বেবাহং জাতুং নাসং , ন ত্বং নেমে জনধিপাঃ
ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বে বয়মতঃপরম।।

অর্থাৎ ভগবান বললেন, বিজ্ঞরা জানেন যে, আদিকালে আমি ছিলাম না, এমন নয়; তুমিও কখনও ছিলে না, তা নয়; বা এই নৃপতিরাও ছিলেন না, তাও সত্যি নয়। ভবিষ্যতে যে আমরা আবার থাকবো না, তা ভুল। অর্থাৎ আমরা আগেও ছিলাম, এখন বর্তমানেও আছি আর পরে ভবিষ্যতেও থাকবো।
এই কথার কি মানে হতে পারে। হতে পারে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত একাকার। সব মিলিয়ে থাকা। আমরা যদি সময়কে একটি বহুতলা বিলিডং কল্পনা করি। আর মনে করি তার মধ্যে বর্তমানে লিফটি যে তলায় (ধরা যাক 8 তলা) দাঁড়িয়ে আছে তা বর্তমান। তাহলে 7 তলা থেকে নীচের সবগুলো তলা হচ্ছে অতীত। আর 9 তলা থেকে উপরের সবগুলো তলা হচ্ছে ভবিষ্যত। এখন যে লিফটে 8 তলায় আছে তার ধারণা শুধু আটতলাটিই আছে। অন্য তলাগুলির কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু বিলিডংটির বাইরে থেকে যে দেখছে সে সবকটি তলাকেই দেখতে পাচ্ছে। অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতকে দেখতে পাচ্ছে। সময় সব সময়ই বর্তমান। অথবা স্টিফেন হকিংসের সূত্রে বলা যায় সময় বলে কিছুই নেই।

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১১

ফটোশপ শিখুন বাংলায়

গ্রাফিক্স ডিজাইনিংটা আমরা শুরু করি ফটোশপ দিয়ে। অনলাইনে ফটোশপের অসংখ্য টিউটোরিয়াল আছে। কিন্তু এসবের বেশীরভাগ ইংরেজীতে হওয়ায় যারা অপেক্ষাকৃত ইংরেজীতে দুর্বল তারা সহজে আয়ত্বে আনতে পারেনা। কিন্তু সেই সমস্যাটা দূর হচ্ছে। এখন আপনি চাইলে বাংলায় ও এই সফটওয়্যারের টিউটোরিয়াল পেতে পারেন।সবার সুবিধার্থে কাজটি করছে আইটেকবাংলা । যাদের মোটেই ধারণা নেই তারাও শুরু করতে পারেন। নিচের বিষয়গুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন। এখানে নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন টপিক। এছাড়া নিবন্ধিত হয়ে আপনার মতামত জানাতে এবং সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।
ফটোশপ শেখার আগে জানুন
গ্রাফিক্সের মোস্ট ওয়ান্টেড টিপস (রঙের ভাষা)

বেসিকস
ফটোশপ বেসিকস: ইন্টারফেস পরিচিতি
ফটোসপ বেসিকস- টুলবক্স পরিচিতি (পর্ব-১)
ফটোসপ বেসিকস- টুলবক্স পরিচিতি (পর্ব-২)
ফটোসপ বেসিকস- টুলবক্স পরিচিতি (পর্ব-৩)
ফটোশপ বেসিকস: নতুন ফাইল খোলা এবং খামখাই ইচ্ছেমত আঁকুন
ফটোশপ বেসিক: নতুন ডকুমেন্ট খোলা
ফটোশপ বেসিকস: ফাইল খোলা এবং নাড়াচাড়া
ফটোসপ বেসিকস: ছবি ক্রপ (কাটাকাটি) করা
ফটোশপ বেসিকস: ছবির পরত (লেয়ার) এবং বিভিন্ন ফরম্যাট
ফটোশপ বেসিকস ৫: লেখা যোগ করা ও লেয়ার ইফেক্ট
photoshop (Width and Height) এবং ইমেজকে কমপ্রেস করা
ফটোশপে তৈরী করতে পারবেন পশু-পাখি বা ফুল আরো অনেক ‍িক
ফটোসপে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড চেইঞ্জ করার কিছু সহজ উপায়


ব্রাশ
ফটোসপেই তৈরি করুন ফটোসপের ব্রাশ!!
ফটোসপের ব্রাশ যেভাবে ইনষ্টল করবেন
ফটোসপের দারুন একটা ব্রাশ!!
ফটোসপের ফাটাফাটি ১০ টি ব্রাশ ডাউনলোড করুন (পর্ব-২)
ফটোসপের ব্রাশ-Dried Blood Splatters (ডাউনলোড)

ইফেক্টস
ফটোসপে গ্লোয়িং ইফেক্ট!!
টেক্সট ইফেক্ট(Cloth Effect)
টেক্সট ইফেক্ট-০২
টেক্সট ইফেক্ট-০৩
টেক্সট ইফেক্ট-০৪(স্মোক ইফেক্ট)
টেক্সট ইফেক্ট-০৫
ফটোশপে সহজ একটা টেক্সট ইফেক্ট
ফটোশপ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন টেক্সক্ট লাইট ইফেক্ট তৈরী
ফটোশপ দিয়ে টেক্সট ইফেক্ট-১০
ফটোসপে ইফেক্ট দিন মাত্র ৩ ধাপে
ফটোসপে ইফেক্ট দিন মাত্র ৫ ধাপে
এক ছবির ইফেক্ট দিন অন্য ছবিতে
25 ESSENTIAL Photoshop MOves

স্টাইল
ফটোশপ styles
ফটোসপে ষ্টাইল ও গ্রিডেন্ট এর ব্যবহারবিধি+ডাউনলোড


ফিল্টারস
ফটোশপে ছবির ইফেক্ট দেওয়া
Cloud Filter(নীল আকাশ তৈরী)
Polar Coordinates-pointillze Filter এর ব্যবহার


প্রজেক্টস
ফটোসপে ছবি কালার করার সহজ উপায়
স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা(ফটো এডিটিং)
মুখের উপর টেক্চার ইমপোর্ট
ফটোশপে তৈরী করুন ফটো গ্যালারী
পাহাড়ের ভিতর সুর্যাস্ত তৈরি
গ্রহ উপগ্রহ এর ছবি ফটোশপ দিয়ে তৈরি
গ্রহ উপগ্রহের ছবি ফটোসপে তৈরি করুন (পর্ব-২)
গ্রহ উপগ্রহের ছবি ফটোসপে তৈরি করুন (পর্ব-৩)
আইকন তৈরী-০২
আইকন-০৪
ফটোসপে ওয়ালপেপার তৈরি পর্ব-০৪
ফটোসপে ওয়ালপেপার তৈরি-০৫
ফটোশপ দিয়ে ভিসতার ওয়ালপেপার তৈরি-০২
ফটোসপে ভিসতার ওয়ালপেপার তৈরি করুন পর্ব-৪
ফটোসপে ওয়েভ ওয়ালপেপার তৈরি
নিজেই তৈরী করুন নতুন বছরের ই-কার্ড
নতুন বছরে বন্ধু-বান্ধবদের জন্য তৈরী করুন গ্রিটিং কার্ড


ইমেজ রেডি
ভালবাসা জীবন্ত করে তুলুন
গ্লিটার টেক্সট অ্যানিমেশন

অন্যান্য
ছবির ফোল্ডার
ফটোশপ শর্টকার্ট
ফটোশপের জন্য ডিজাইন ফন্ট
প্রফেশনাল কাজের জন্য প্রফেশনাল ফন্ট
ফটোশপ ডিজাইনিং এর জন্য 9480 ফন্ট
ফ্রিতে একটা ফটোশপ! Photofiltre (free)

ফটোশপ শেখার আগে জানুন
রং আল্লাহতায়ালার এক অপার সৃষ্টি। এই মহাবিশ্বের যেদিকেই তাকান না কেন, চারদিকে দেখবেন শুধু রঙের খেলা। চন্দ্র-সূর্য, আকাশ-মাটি, গ্রহ-নক্ষত্র, ফুল-ফল, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত যেদিকেই তাকান রঙের অকল্পনীয় শৈল্পিক ব্যবহার বারবার আপনার চোখে ধরা দিতে থাকবে। রঙের জগত হচ্ছে এক অবাক করা মায়াবী জগত। গ্রাফিক্স ডিজাইনারের যতগুলো অপর নাম আছে তার একটি হলো কালার স্পেশালিস্ট। অর্থাৎ গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আরেক নাম রং বিশেষজ্ঞ। রঙের মাত্রাজ্ঞান, তার যত মহিমা-বৈশিষ্ট্য, এর প্রয়োগ কলাকৌশল, রঙের ভাষা, রঙের ক্ষমতা ইত্যাদি সম্পর্কে যিনি যত বেশি জানেন অর্থাৎ যিনি যত বেশি অভিজ্ঞ, তিনি তত বড় ডিজাইনার।
প্রতিটি মৌলিক রঙেরই এক একটি বৈশিষ্ট্য আছে। রং ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নিজেদের অজান্তেই আমাদের রুচি, অনুভূতি, দৃষ্টিভঙ্গি, সরলতা ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকি। তাই যেকোনো ডিজাইনেই রঙের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। রঙের ভাষা কি? কেমন? কিভাবে প্রকাশ করা হয়? আসুন এ ব্যপার গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক...
রঙের বিভিন্ন রকম পরিচিতি আছে, লাল রং আপনাকে থেমে যাওয়ার নির্দেশ দেয় আর সবুজ রং আপনাকে এগিয়ে যেতে বলে। ঠিক তেমনি হলুদ রং আপনাকে অপেক্ষা করার আবেদন জানায়। কালো রং শোক প্রকাশ করে আবার সাদা রং সরলতার প্রতীক। একটি রং যখন আরেকটি রঙের সাথে মিলিত হয় তখন একটি অপরটির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। ছবিতে দেখুন একই রং অন্যান্য রঙের সংস্পর্শে এসে কিরকম প্রভাবিত হয়েছে...
রঙের যথাযথ ব্যবহার আপনার পণ্যের বিক্রি বাড়িয়ে দেবে বহুগুন, ঠিক তেমনি ভুল রঙের ব্যবহার আপনার পণ্যকে নিমিষেই ফ্লপ করিয়ে দিতে পারে। আপনি রঙের মানানসই প্রয়োগ দেখতে বিশ্বের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গুলোতে ঢুঁ মারতে পারেন। সেখানে দেখতে পাবেন কিভাবে রঙের সামঞ্জস্য করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক রঙের ব্যবহার দেখা যায়, কারন একটি ডিজাইনে একই রঙের বিভিন্ন মাত্রা ব্যবহার করে দেখা গেছে যে খুব সহজেই ফাটিয়ে দেয়া যায়।
জমকালো রং মানেই উৎকৃষ্ট ডিজাইন নয়। বরং এর বিপরীত টাই উৎকৃষ্ট ডিজাইন। হ্যাঁ, অনেক সময় দেখা গেছে যে ডিজাইনের প্রয়োজনেই (যেমন রঙের ডিব্বা কোম্পানির বিজ্ঞাপন, রঙে রঙে রাঙিয়ে দিলাম টাইপের বিজ্ঞাপন) জমকালো রং ব্যবহার করতে হয়। সেক্ষেত্রে রং সম্বন্ধে, রঙের ব্যবহার সম্বন্ধে আপনার যথেষ্ট জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা না থাকলে ডিজাইনের শ্রেষ্ঠত্ব বিনষ্ট হতে বাধ্য।
ব্যাকগ্রাউন্ডে এক কালার রং ব্যবহার করার যুগ এখন প্রায় অতীত। দুই রং বা তিন রঙের গ্রেডিয়েন্ট (একটি রং হালকা হতে হতে এক সময় মিশে যায় এবং ঠিক একই ভাবে আরো এক বা একাধিক রং হালকা থেকে গাঢ়তর হয়ে ফুটে ওঠে) ব্যবহারের মাধ্যমে আকর্ষনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করা সম্ভব। তবে হ্যা, ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি এক রঙের প্রয়োগ ঘটান তাহলে, যে রং টি ব্যবহার করছেন ঐ একই রঙের বিভিন্ন মাত্রাসহ ব্যবহার আপনার ডিজাইন কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুন। রঙের মাত্রা সম্পর্কে এবার একটু আলোচনা করা যাক...
সাদা, কালো এবং ধূসর রং দিয়ে আমি ব্যাপারটা সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি।
এখানে পিউর হোয়াইট এবং পিউর ব্ল্যাক এর মধ্যে যতগুলো রং দেখছেন সবগুলো হচ্ছে ধূসর বা গ্রে কালারের বিভিন্ন মাত্রা। আবার পিউর হোয়াইট থেকে ৪০% গ্রে পর্যন্ত যতগুলো রং বিদ্যমান সেগুলোকে আপনি সাদা রঙের বিভিন্ন মাত্রাও বলতে পারেন। কালো রঙের মাত্রাও তেমনি ৬০% গ্রে থেকে পিউর ব্ল্যাক পর্যন্ত। আর ৫০% গ্রে কালারটিকে পিউর গ্রে কালারও বলতে পারেন। এভাবে লাল, নীল, সবুজ, হলুদ সব রকম রঙেরই বিভিন্ন মাত্রা আছে।
হ্যাঁ, রঙের ক্ষমতা সম্পর্কে আরো কিছু বলা যাক...
রং আপনার চোখে ও অন্তরে প্রশান্তি এনে দিতে পারে, আবার আপনার চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিতেও রঙের জুড়ি নেই। রং আপনার মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে। আপনার মনে উত্তেজনার ঝড় বইয়ে দিতে রঙের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিছু কিছু রং আছে একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারেনা। মানে এদের সহাবস্হান ততটা সুখকর নয়।
অনেক হয়েছে, এবার প্রচলিত কয়েকটি রং সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে এই লেখার ইতি টানা যাক।
নীলঃ নীল একটি ঠান্ডা রং। সাধারনত শান্তি, স্নিগ্ধতা, আবেগ-অনুভূতি, সম্প্রীতি, কোমলতা ইত্যাদি বুঝাতে নীল রং ব্যবহার করা হয়। খুব সিম্পল টাইপের ডিজাইনে নীল রঙের ব্যবহার বেশি হলেও অ্যাবস্ট্রাক্ট টাইপের ডিজাইনে স্পিড আনতে নীল রঙের জুড়ি নেই। নীলের সাথে সাদা, কালো বা গ্রে ভালো মানায়। ঠিক তেমনি গোধূলির মত কমলা বা গোলাপী রং নীলের সাথে ব্যবহার করলে ফলাফল তেমন একটা ভালো হয়না।
লালঃ লাল একটি চোখ ধাঁধানো তীব্র রং। সাধারনত ডিজাইনে বিষয়বস্তুর তীব্রতা বোঝাতে এর ব্যবহার দেখা যায়। স্পিড, এডভেঞ্চার, ভায়োলেন্স, এক্সাইটিং ইত্যাদি ভাব প্রকাশার্থে লাল রং আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। তবে ডিজাইনে লালের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। আর সেই সাথে লাল-সবুজ, লাল-হলুদ, লাল-বেগুনি ইত্যাদি ডিজাইনে ব্যবহার করা অনুচিত। কারন এদের সহাবস্হান ভালো ফলাফল দেয়না।
বেগুনিঃ আধ্যাত্মিকতা, আভিজাত্য বিশেষ করে রাজকীয় ডিজাইনে বেগুনির ব্যবহার ভালো ফল দেয়। ধর্মীয় ডিজাইনে এর ব্যবহার বেশি। ব্যাকগ্রাউন্ড কালার হিসেবেও বেগুনি দারুন কাজ করে।
সবুজঃ প্রানচাঞ্চল্য, সজীবতা, নিসর্গ, আন্তরিকতা ইত্যাদি বুঝাতে সবুজ রং ব্যবহার করা হয়। সবুজের সাথে বাংলাদেশের প্রকৃতির যথেষ্ট সখ্যতা আছে। সবুজের সাথে একমাত্র লালের ব্যবহারেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
হলুদঃ হলুদ রং সাধারনত প্রফুল্লতা, সাহস ইত্যাদি বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টেক্সটকে হাইলাইট করতে ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ডে হলুদ রঙের টেক্সট ব্যবহার করা হয়।
গোলাপিঃ গোলাপি রং রমণীয়, কমনীয় আর রূপ লাবণ্যের প্রতীক। ডিজাইনে সৌন্দর্য বাড়াতে কিংবা আনকমন একটা ভাব আনতে এর ব্যবহার দেখা যায়। তবে এর বাড়াবাড়ি রকমের ব্যবহার আপনার ডিজাইনকে নষ্ট করে দেবে।
কমলাঃ ন্যাচারাল ডিজাইন ছাড়া কমলার ব্যবহার তেমন একটা দেখা যায় না। অথচ হালকা পরিমানে কমলার ব্যবহার আপনার ডিজাইনকে আনকমন ও গুডলুকিং করে তোলে।
ধূসরঃ সাদাকালো ডিজাইনের ক্ষেত্রে গ্রে কালারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অবশ্য গ্রে নিজেই সাদাকালো রঙের মধ্যে পড়ে। রঙিন ফটোগ্রাফ থেকে সমস্ত রং শুষে নেওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই সাদাকালো ইফেক্ট দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় যে সাদাকালো ইফেক্ট তেমন মানানসই হয়নি। এমতাবস্হায় গ্রে কালার ব্যবহারের মাধ্যমে সাদাকালো ইফেক্টকে আকর্ষনীয় করে তোলা যায়।
সাদাঃ এটি একটি নিরীহ টাইপের রং। সাধারনত সরলতা, শক্তি আর তারুন্যের প্রতীক এই সাদা রং। আপনার ডিজাইনে ঝকঝকে, তকতকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাব আনতে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
কালোঃ এটি সর্বাধিক রঙের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত একটি রং। কালো রং সাধারনত শোক প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এর ভেতর রহস্যময়তা ও খান্দানি ভাব আছে। কালোর সাথে যেকোনো রং মানায়। আপনার ডিজাইনে গাম্ভীর্য টাইপের ভাব প্রকাশেও এটি অনন্য। ব্যাকগ্রাউন্ডের ক্ষেত্রে এক কালার কালো ব্যবহার না করে কালোর বিভিন্ন মাত্রাসহ ব্যবহার কিংবা কালোর সাথে অন্য কোনো রঙের গ্রেডিয়েন্ট ব্যবহার করলে অত্যন্ত ভালো ফল পাওয়া যায়।
বিঃ দ্রঃ এত বড় টিউটোরিয়াল কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এখানে অসংখ্য ভুল থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে দয়া করে এই অধমকে গালাগালি না করে নিজ গুনে ক্ষমা করে দেবেন। লিখতে লিখতে তো জান কয়লা হয়ে গেছে। কিবোর্ডের কী ও দুয়েকটা নষ্ট হয়ে গেছে (মনে হয়)।
আমার ফ্যান পেজ

সোমবার, ৩০ মে, ২০১১

শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি




শহীদ জিয়ার শাহাদাত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গিয়ে যে কথাটি সর্বাগ্রে মনে আসে তা হচ্ছে, একজন সফল ও স্মরণ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অল্প সময়েই তাঁর প্রতিষ্ঠা। নতুন স্বাধীনতা পাওয়া দরিদ্র ও অনগ্রসর একটি দেশ, যা ছিল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দোদুল্যমান—তাতে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোতে স্থাপন করে, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করে উন্নয়নের রাজপথে চলমান করিয়ে দেওয়ার বিরল কৃতিত্বের বিতর্কাতীত অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান। ভাবলে অবাক হতে হয়, রাজনীতিতে সেই সময় অনভিজ্ঞ এক তরুণ কর্মকর্তা কী অদম্য সাহস, অপরাজেয় মনোবল এবং অসীম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতির দিকনির্দেশনা স্থির করে দেন। ঘোষণা-উত্তর স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে সফল সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। আবার সফল মুক্তিসংগ্রাম-উত্তরকালে মধ্য-সত্তরের চরম অস্থির এক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে কান্ডারি হয়ে জাতিকে বিপর্যয়ের মুখ থেকে রক্ষা করেন এবং সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়নের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে জাতির অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেন।
জিয়ার নেতৃত্বের প্রথম দিকেই ১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় প্রেসিডেন্ট জিয়ার কৃতিত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসাবাণী উচ্চারণ করতে গিয়ে এক ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরেন, ‘Your position is already assured in the annals and the history of your country as a brave freedom fighter who was the first to declare the independence of Bangladesh.’ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর জুনের প্রথম সপ্তাহে লন্ডনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট আয়োজিত এক শোকসভায় তদানীন্তন কমনওয়েলথ মহাসচিব স্যার শ্রীধাত রামফাল যথার্থ উক্তি করেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া বাংলাদেশে শুধু যে একদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা নয়, এই উন্নয়নকামী দেশকে সার্বিক উন্নয়নের রাজপথে পরিচালিত করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সার্কের মাধ্যমে ঐক্যবন্ধনে গ্রথিত করা তাঁর এক স্বপ্ন। তাঁর অকালমৃত্যুতে তাঁর দেশ এক নিপুণ সংগঠক ও সফল রাষ্ট্রনায়ককে শুধু হারাল না, দক্ষিণ এশিয়া হারাল এক দূরদর্শী ও স্বাপ্নিক, উন্নয়নশীল জগৎ হারাল এক মহান নেতা, কমনওয়েলথ হারাল সৌভ্রাতৃত্বে বিশ্বাসী আস্থা সৃষ্টিকারী এক অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বকে।’
জিয়ার স্মৃতিতর্পণ প্রসঙ্গে আরেকটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমি তখন জেদ্দার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) অপারেশনসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট। ব্যাংকের পঞ্চাশোর্ধ্ব সদস্যদেশের মধ্যে একটি দেশ আফ্রিকার মালি। কর্তব্য নিবন্ধনে গিয়েছিলাম রাজধানী বামাকো। অনুসঙ্গী ছিলেন ব্যাংকের দু-তিনজন কর্মকর্তা। মনে পড়ছে যাঁর মধ্যে ছিলেন তরুণ অর্থনীতি-বিশ্লেষক আবদুল্লাহ গুল, বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, যিনি গত বছর রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসেছিলেন। মালির সরকারি নেতাদের সঙ্গে ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা-অন্তে দেশের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট কোনারে বললেন, ‘জেনে খুশি হলাম, আপনি বাংলাদেশের। ওই দেশের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। উন্নয়নকামী দেশগুলোর অগ্রগতির জন্য তিনি এক উল্লেখযোগ্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর তিরোধানে এলডিসি দেশগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তারা হারিয়েছে এক অন্যতম যোগ্য নেতা।’
অবাক বিস্ময়ে শুনছিলাম এক প্রয়াত প্রেসিডেন্টের প্রতি আরেক দেশের এক ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের শোকাপ্লুত শ্রদ্ধা নিবেদন। বহু বছর ব্যবধানে এক বহু দূর দেশে। প্রেসিডেন্ট কোনারে আরও বললেন, ‘তাঁর স্মৃতিতে রাজধানীর একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করেছি আমরা। ইচ্ছে করলে আপনি গিয়ে দেখে আসতে পারেন।’ তাঁরই নির্দেশনায় প্রটোকলের কর্মকর্তা সমভিব্যাহারে গিয়ে দেখলাম, শহরের প্রশস্ততম রাজপথ কিং ফাহদ সরণির অব্যবহিত পরেই এভিনিউ জিয়াউর রহমান। দুদিকে বৃক্ষশ্রেণীর মধ্যে প্রসারিত দীর্ঘ প্রশস্ত রাজপথ। মনে পড়ল, তুরস্কে দেখেছিলাম জিয়ার স্মরণে আরেকটি সরণি। জান্নাতবাসী জিয়া ওই সেদিন ওই সুদূরে ভ্রমণকারী এক বাঙালির হূদয় গর্বে ভরে দিয়েছিলেন। গিনির প্রেসিডেন্ট সি কো তুরে, ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাত, ভুটানের রাজা ওয়াংচুক—আরও বহু এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের কাছে শুনেছি বহু বছরের ব্যবধানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া সম্পর্কে শোক ও শ্রদ্ধামিশ্রিত প্রশস্তি। রাষ্ট্রাচারের প্রয়োজনতাড়িত গতানুগতিক উক্তি নয়, অন্তরের অন্তস্তল থেকে উৎসারিত আবেগঘন শ্রদ্ধা নিবেদন। সবার মনে, দেশে ও বিদেশে ক্ষমতাধরদের মধ্যে ও সাধারণ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া যে এক পরম সম্মানের আসন চিরকালের জন্য দখল করে আছেন, তা কিসের জন্য? কিসের জোরে? এর মধ্যে তো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, নেই রাষ্ট্রাচারের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ, নেই দ্বিপক্ষীয় প্রশস্তি বিনিময়ের রীতিনীতি। এর কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিগৃহীত, বঞ্চিত ও দুর্বল দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবন্ধন সৃষ্টি করে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়। ‘সার্ক’-এর সৃষ্টি, আল আকসা কমিটির আলোচনা, এলডিসি দেশগুলোর স্বার্থরক্ষা—এসব বিষয়ে তাঁর নেতৃস্থানীয় বলিষ্ঠ অগ্রণী ভূমিকা পালন। আরও রয়েছে দেশের মধ্যে জাতির বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধান, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি, জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, দুরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সর্বোপরি ব্যক্তিগত জীবনে প্রশ্নাতীতভাবে উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করে সব ধরনের দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে শহীদ জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও নেতৃত্ব, তাঁর অনমনীয় মনোবল, সৎ, সাধু ও নিঃস্বার্থ আচার-ব্যবহার, তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা-পরিকল্পনা, তাঁর অতুলনীয় আপসহীন দেশপ্রেম, অতি অল্প সময়ের মধ্যে এক বিভ্রান্ত, হতাশাগ্রস্ত জাতিকে যেন তিনি একটি জীয়নকাঠির মায়াবি ছোঁয়ায় আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত ও সক্রিয় করে তুলেছিলেন।
বর্তমানে দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, রাজনৈতিক স্বার্থজনিত কারণে ক্ষমতায় আরোহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে তাঁর চরিত্র হরণের অসাধু কিন্তু নিষ্ফল প্রচেষ্টা হচ্ছে। অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস ৭ নভেম্বরের বর্ণনা দিয়েছেন (বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড, অনুবাদ পৃ. ১২২) এভাবে, ‘উল্লসিত কিছু সৈনিক আর বেসামরিক লোক নিয়ে কতগুলো ট্যাংক ঢাকা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় চলাচল করতে দেখা যায়। এবার এই ট্যাংক দেখে লোকজন ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে ট্যাংকের সৈনিকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং উল্লাসে ফেটে পড়ে। চার দিন ধরে তারা মনে করেছিল যে, খালেদ মোশাররফকে দিয়ে ভারত তাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা খর্ব করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এতক্ষণে তাদের দুঃস্বপ্ন কেটে গেল। সর্বত্রই জোয়ান আর সাধারণ মানুষ খুশিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি শুরু করে। রাস্তায় নেমে তারা রাতভর স্লোগান দিতে থাকে—বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ ইত্যাদি। অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের গণজাগরণের মতো জনগণ আবার জেগে উঠেছে। এটা ছিল সত্যিই এক স্মরণীয় রাত।’
এই অভ্যুত্থানকারী সৈনিক-জনতাই বন্দিদশা থেকে জিয়াকে মুক্ত করে। এর আগে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাকের জারি করা আইনের ধারাবাহিকতায় খালেদ মোশাররফ প্রশাসনে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিচারপতি সায়েম দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর। সেনাপ্রধান জিয়া তখন খালেদের হাতে বন্দী। ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও সিএমএলের দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম। এ ঘটনাগুলোতে পরিষ্কারই দেখা যাচ্ছে জিয়া ‘ক্যু’ করে ক্ষমতায় আসেননি। তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেননি। স্পষ্টতই প্রতীয়মান হচ্ছে, বাংলাদেশে একদলীয় শাসন এবং সামরিক আইন কোনোটিরই প্রবর্তক জিয়া ছিলেন না, ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। জিয়া পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিরই প্রবর্তন করেন।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে তাঁর নীতিনির্দেশক কথাগুলো (যা তাঁর তথ্য উপদেষ্টা দাউদ খান মজলিশের মাধ্যমে ১৯৮১ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হয়) স্মরণ করি, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন শত শত বর্ষ ধরে এ দেশের আপামর জনগণের অন্তরে চিরজাগরূক রয়েছে। যুগ যুগান্তরের দেশপ্রেমিকদের হূদয়ের মর্মমূলে নিহিত তাদের সর্ব উৎসাহ, উদ্যোগ ও প্রেরণার উৎস এই দর্শন। এতে নিহিত রয়েছে বাস্তব আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচী, যা দেশের ঐক্যবদ্ধ জনগণকে সমকালীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপযোগী বাস্তবমুখী ও সময়োচিত শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করবে, জাতিকে সুনিশ্চিতভাবে অগ্রগতির ও সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে এবং বিশ্বজাতির দরবারে বাংলাদেশকে মর্যাদা ও গুরুত্বের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
‘...আমাদের মূল লক্ষ্য তথা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিমূলে রয়েছে যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন, তাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে। শোষণমুক্ত সমাজ বলতে মূলত বোঝায় ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও পরিবার পরিকল্পনার মৌলিক চাহিদা পূরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।...একথা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি শোষণমুক্ত সমাজ, যা হবে অত্যন্ত বাস্তব প্রগতিশীল একটি সমাজ, যাতে থাকবে সমতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার।’
আজকের এই অনিশ্চয়তার দিনে জাতির জন্য আশা উদ্দীপক অনুপ্রেরণার বাণী আর কী হতে পারে?
ইনাম আহমদ চৌধুরী: বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

রবিবার, ২৯ মে, ২০১১

Shabnur A Bangladeshi Actress


বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের বাড়ি নোয়াখালী! যারা এ কথা বিশ্বাস করছেন না তাদের জন্য বলার শুধু এটুকুই- পি এ কাজলের ‘পিরীতের দোকানদারী’ ছবিটি বেরুনোর পর হলে গিয়ে দেখুন- চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। কারণ গড়গড় করে নোয়াখালীর মানুষের মতো করে কথা বলবেন এই জনপ্রিয় নায়িকা!
ছবির প্রয়োজনে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে শাবনূর গ্লিটজকে বলেন, “নোয়াখালীর মানুষের মুখের ভাষাটা অনেক মজার। আর এটা বাকী অঞ্চলের চেয়ে আলাদা তো বটেই। ফলে এই ভাষায় অভিনয় করতে গিয়ে প্রথমে একটু সমস্যা হলেও পরে খুব মজা পেয়েছি।”
তিনি আরো জানান, নোয়াখালীর ভাষায় কথা বলার জন্য তাকে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হয়েছে। আর শুটিং ইউনিটের বেশিরভাগ মানুষ নোয়াখালীর হওয়ায় তার বেশ উপকার হয়েছে ভাষাটি আয়ত্ব করার ক্ষেত্রে।
‘পিরিতির দোকানদারী’ ছবিতে শাবনূরের নায়ক নবাগত আমান খান।
ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন- রাজ্জাক, বিন্দু, ইমন, দিঘী সহ অনেকে।
ছবিটি প্রযোজনা করছেন নিশা তাসনিম শেখ। পরিবেশনায় রয়েছে ‘ঋদ্ধি টকিজ’।
এর আগে বরিশাল এবং ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায় তাকে কথা বলতে দেখা গেছে ছবির পর্দায় শাবনূরকে।

বলিউড তারকায় মুখর কান চলচ্চিত্র উৎসব


১১ই মে থেকে শুরু হয়ে বিশ্বের নন্দিত তারকাদের পদচারণায় ইতিমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে ৬৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবস্থল।
উৎসবে হলিউড তারকাদের বাইরে এবার বলিউড তারকাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ১১ থেকে ২২শে মে পর্যন্ত এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বলিউড তারকা কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে উৎসবে যোগ দিয়েছেন বলিউড পেরিয়ে হলিউডেও অবস্থান করে নেয়া ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এবং মল্লিকা সারাওয়াত।
১১ই মে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেড কার্পেটে হাঁটার মধ্যে দিয়ে এই উৎসবে যোগ দেন সর্বপ্রথম ঐশ্বর্য রাই। গত আসরেও এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন সাবেক এ বিশ্ব সুন্দরী। হলিউডের আদলে একটি গাউন পড়ে এবারের উৎসবে যোগ দিয়ে মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবার নজরই কেড়েছেন ঐশ্বর্য।
মিডিয়ার কাছে তিনি এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবটি এক কথায় ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন। ঐশ্বর্য’র মতোই হলিউডের তিনটি ছবিতে কাজ করা মল্লিকা টানা তৃতীয়বারের মতো এবারও যোগ দেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে।

হামিদ মীর : সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক




হামিদ মীর। শুধু একটা নাম নয়, অকুতোভয় সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক। তিনি সাংবাদিক, সংবাদ উপস্থাপক, সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশেস্নষক। জন্ম পাকিসত্মানের লাহোরে ১৯৬৬ সালের ২৩ জুলাই। বড় হয়েছেন সাহিত্যিক পরিম-লে। পড়াশুনাও করেছেন সাংবাদিকতা নিয়েই। ১৯৮৯ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ (mass communication) বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবন
সাংবাদিক হওয়াটা যেন নিয়তি ছিল হামিদ মীরের জন্য। কলামিস্ট বাবা অধ্যাপক ওয়ারিস মিরের আকস্মিক মৃত্যু তাকে টেনে নিয়ে আসে সাংবাদিকতার জগতে। মাত্র ২১ বছর বয়সে (১৯৮৭ সালে) যোগ দেন দৈনিক জং পত্রিকায়। সাথে ছিল বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অকুতোভয় সাহস। তৎকালীন সেনা শাসক জেনারেল জিয়াউল হকের কড়া সমালোচক ছিলেন ওয়ারিস মীর। ধারণা করা হয় তার কণ্ঠ সত্মব্ধ করতে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয় তাকে। বাবার মতোই দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে হামিদ মীরকেও সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি। শাসকরা সমালোচনাকে ভয় পান। এই সত্য প্রমাণ করে সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফ তো বটেই, বেনজির ভুট্টোর গণতান্ত্রিক শাসনামলেও সত্য প্রকাশের দায়ে চাকরি গেছে তার।
১৯৯৪ সালে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে নজরে আসেন তিনি। প্রকাশ করেন ডুবো জাহাজ কেলেঙ্কারির গোপন তথ্য। ওই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো’র স্বামী বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সরকারের রোষানলে পড়ে সংবাদটি প্রকাশের পরপরই চারকি হারান মীর। উঠে আসেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেইসাথে তার সাহসিকতা প্রথম পরিচয় পায় পাকিসত্মানের মানুষ।
মীর ১৯৯৬ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিসত্মানের সম্পাদক হিসেবে। এর মধ্য দিয়ে পাকিসত্মানের কোনো উর্দু ভাষার দৈনিক সবচেয়ে কম বয়সী সম্পাদক হয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। কিন্তু তার অদম্য সাহসের পুরস্কার হিসেবে আবারও চাকরি হারালেন তিনি। অপরাধ, সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুর্নীতি সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশ।
একই বছর ১৯৯৭ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে প্রকাশ করেন দৈনিক আউসাফ। চলতে থাকে তার কলম। সেইসাথে চলে তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। খবর প্রকাশের ÿুধায় মৃত্যু ভয়কে পরোয়া না করে চষে বেড়ান আফগানিসত্মানের পূর্বাঞ্চল। আবিস্কার করেন ২০০১ সালের ডিসেম্বরে তোরাবোরা পাহাড় থেকে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পলানোর তথ্য। বিন লাদের যে গুহায় পালিয়ে ছিলেন তাও ঘুরে দেখেছেন এই সাহসী সাংবাদিক।
এরপর ২০০২ সালে যোগ দেন পাকিসত্মানের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক চ্যানেল জিও টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় সম্পাদক হিসেবে। শুরম্ন করেন রাজনৈতিক টক শো ক্যাপিটাল টক। তুমুল জনপ্রিয় হয় অনুষ্ঠানটি। পাকিসত্মানের রাজনীতিকরা তো বটেই তার অনুষ্ঠানে এসেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস, সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি বেস্নয়ার, ভারতের বিজেপি নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানিসহ আরো অনেকে।
মীর শুধু যে দেশের ভেতরেই হয়রানির শিকার হয়েছেন তা নয়, বিদেশের মাটিতে হয়েছেন নাজেহাল। ২০০৬ সালে ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হিজবুলস্নাহ’র হাতে গ্রেফতার হন তিনি। হিজবুলস্নাহ’র সন্দেহ ছিল-ইসরাইলের চর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু এ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেয় হিজবুলস্নাহ। পরের বছর দেশের মাটিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মুহাম্মদ চৌধুরীর বরখাসেত্মর প্রতিবাদে আইনজীবীদের বিÿÿাভ সরাসরি সম্প্রচার করে মুশাররফ সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। নিষিদ্ধ হন চার মাসের জন্য। প্রতিবাদের রাসত্মায় নামেন তিনি। পরিণত হন আমত্মর্জাতিক ব্যক্তিত্বে। তাকে নিয়ে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিখ্যাত সব পশ্চিমা গণমাধ্যম। ২০০৮ সালে পাকিসত্মান পিপলস পার্টিও কয়েক দিনের জন্য নিষিদ্ধ করে তাকে। মুম্বাই হামলার পর শামিত্ম ও বস্ত্তনিষ্ঠ সাংবাদিকতরা মূখপাত্রে পরিণত হন তিনি।
কাজ, পুরস্কার ও স্বীকৃতি
· সেরা কলাম লেখক হিসেবে ১৯৯৬, ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে অর্জন করেন অল পাকিসত্মান নিউজ পেপারস সোসাইটি পুরস্কার।
· নারী স্বাধীনতা নিয়ে লেখার জন্য মহিলা মন্ত্রণালয় থেকে পান ফাতিমা জিন্নাহ স্বর্ণ পদক।
· ১৯৯৭ সালে তিনি দৈনিক পাকিসত্মানের জন্য ও ১৯৯৮ সালে দৈনিক আওসাফের জন্য ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।
· ২০০১ সালে দৈনিক ডনের পক্ষ থেকে তিনি উসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করন। এটি ছিল ৯/১১ এর পর ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের প্রথম সাক্ষাৎকার।
· বিবিসি ও সিএনএন এই সাক্ষাৎকারটিকে আমত্মর্জাতিক বিস্ফোরণ হিসেবে আখ্যা দেয়। মাসিক হেরাল্ড ২০০১ এর ডিসেম্বরের বিশেষ সংখ্যায় এ সাক্ষাৎকারটিকে বছরের সেরা বিস্ফোরণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
২০০৫ সালের অক্টোবরে কাশ্মিরের ভূমিকম্পের ওপর সংবাদ সংগ্রহের জন্য মার্কিন সংবাদপত্র ‘ক্রিশ্চান সাইন্স মনিটর’ হামিদ মীরকে পাকিসত্মানি জনগণের নায়ক রূপে ঘোষণা করে।
২৬শে মার্চ ২০১০ সালে সার্কের আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত হন হামিদ মীর।
সমালোচনা
তালেবানদের সমর্থক বলে মীরের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ তুলেছে অনেকে। আবার তালেবানরা সিআইয়ের এজেন্ট বলে সন্দেহ করে তাকে। তিনি পশ্চিমাদের এজেন্ডা প্রচার করেন করেন বলেও মনে করেন অনেক বিশেস্নষক। অনেকে আবার উল্টো কথাও বলেন। মার্কিন চালকবিহীন বিমান হামলা নিয়ে সদা সোচ্চার মীরকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটু বেশিই কঠোর বলে মনে করেন তারা। আবার মীরকে ভারতের চর বলেও মনে করেন কেউ কেউ ।
সরকারের সাথে বিরোধ
তার সাংবাদিকতার জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই নানা বিষয় নিয়ে পাকিসত্মান সরকারের সাথে বিরোধে জড়িয়েছেন মীর।
· ২০০৫ সালের অক্টোবরে পাকিসত্মান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভূমিকম্পের খবর সংগ্রহ করতে যান তিনি। কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি আছে বলে দাবি করেন তিনি। তাকে নিষিদ্ধ করার হুমকি দেয় মুশাররফ সরকার।
· একই বছর তালেবানদের সাথে সেনাবাহিনীর তথাকথিত শামিত্ম চুক্তির বিরোধিতা করে স্বৈরশাসকের ক্রোধানলে পড়েন মীর।

· পরের বছর ২০০৬ সালে মার্কিন চালকবিহীন বিমান হামলার পর উপজাতি অধ্যুষিত বাজুর এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। প্রমাণ করেন, মার্কিন ÿÿপনাস্ত্র শুধু শিশু ও নারীদেরকেই হত্যা করে, আল-কায়েদা যোদ্ধাদের নয়।

· ২০০৭ সাল- তালেবানদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে তার প্রতি অভিযোগ তোলে মুশাররফ সরকার ।





পাকিসত্মানের উত্তরাঞ্চলীয় সম্পাদক হিসেবে ২০০২ সালে যোগ দিয়েছিলেন জিও টিলিভিশনে। মাত্র ৮ বছরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন চ্যানেলটির নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি এখন ব্যসত্ম বই লেখার কাজে।